Event, Higher Study in Korea

দক্ষিণ কোরিয়াতে উচ্চ শিক্ষার দিকনির্দেশনাঃ শুরু থেকে শেষ

দক্ষিণ কোরিয়াতে উচ্চ শিক্ষার দিকনির্দেশনাঃ শুরু থেকে শেষ

দক্ষিণ কোরিয়াতে উচ্চ শিক্ষার দিকনির্দেশনাঃ শুরু থেকে শেষ

দক্ষিণ কোরিয়ায় আসার জন্য অনেকে অনেকভাবে তথ্যের জন্য কোরিয়া প্রবাসীদের কাছে
তথ্য চেয়ে মেসেজ, পোস্ট বা ইমেইল করে থাকেন কিন্তু অনেকের সকল ইনফরমেশন দিয়ে
সাহায্য করার সুযোগ হয়ে উঠে না। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কি কি করতে হবে তার একটা
বেসিক ধারণা দেওয়ার জন্যই আজকের লেখাটা। আমি ধরে নিলাম, আপনি কোরিয়াতে আসার
জন্য আগ্রহী কিন্তু কিভাবে কি করতে হবে সে বিষয়ে খুব একটা ধারণা নাই। তাহলে শুরু করা
যাক….

গুগল/ফেসবুক গ্রুপ:

গুগল এবং উচ্ছশিক্ষার জন্য তৈরি ফেসবুক গ্রুপগুলো আপনাকে সর্বোচ্ছ সাহায্য করবে।
গুগলে আপনার কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলেই ঐ রিলেটেড সকল ইনফরমেশন পাবেন এবং
একটা একটা করে সব পড়ে ফেলুন এবং নোট নিয়ে রাখুন।ফেসবুক গ্রুপগুলোতে প্রথমে যুক্ত
হয়ে নিন এবং ফাইল সেকশনে অনেক ইনফরমেশন দেওয়া থাকে, সেখান থেকে আপনার
প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো পড়ে ফেলুন।মোটামুটি আপনার ভালো একটা আইডিয়া হয়ে গেছে আসা
করি।

কিভাবে আবেদন করতে হবে:

কোরিয়ায় পড়াশোনার জন্য আপনি বিভিন্নভাবে আবেদন করতে পারেন। কয়েকটি সরকারী
বৃত্তি রয়েছে যার মাধ্যমে ব্যাচেলর, স্নাতক এবং পিএইচডিতে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে
পারবেন স্নাতক এবং পিএইচডি পর্যায়ে, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এখানে প্রফেসর ফান্ডিংয়ের
মাধ্যমে আসেন। আপনি যে বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী, ঐ গবেষণা নিয়ে কাজ করে এমন
সকল প্রফেসরের সাথে কন্টাক্ট করার কাজ শুরু করতে পারেন। সুতরাং আপনার আগ্রহী
প্রফেসরকে সরাসরি মেইল করা শুরু ​​করুন।
বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএসএকের মিলনমেলা

প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য কয়েকটি টিপস:

  • গুগলে সার্চ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিস্ট করুন এবং একটা একটা করে ঐ ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে যান।
  • এরপর ইংলিশ অপশন ক্লিক করে ইংলিশ ভার্সনে যান।
  • সেখানে আপনার গবেষণা নিয়ে যে প্রফেসর কাজ করেন তাদের ইমেইল ঠিকানা এবং রিসার্চ রিলেটেড কোন আলাদা পেইজ/ওয়েবসাইট থাকলে সেখান থেকে প্রফেসর সম্পর্কে বিস্তারিত যেনে নিন এবং প্রফেসরের গবেষণা বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং নোট করে রাখুন।
  • এরপরে প্রফেসরের কাছে মেইল ​​করুন। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রফেসরদের ইমেইল ঠিকানা পেতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে, কারণ প্রফেসরের হোম পেজ বা ডিপার্টমেন্টের হোম পেইজ কোরিয়ান ভাষায় থাকে এবং ইংরেজিতে খুব কম তথ্য থাকে।
সুতরাং, প্রফেসরের ইমেইল ঠিকানাগুলি সহজে পাওয়া না গেলে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রথমে মেইল করতে পারেন।

কীভাবে পরবর্তী কাজগুলো এগিয়ে নিবেন:

দক্ষিণ কোরিয়ায় ২টি সেমিস্টার রয়েছে।
স্প্রিং সেমিস্টার (মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে জুনের ৩য় সপ্তাহ)
  • স্প্রিং সেমিস্টারে জন্য প্রফেসরদেরকে জুন/জুলাই থেকে মেইল শুরু করা উচিৎ।
  • এপলিকেশন জমা: সেপ্টেম্বর / অক্টোবরের মধ্যে
  • ভর্তি নিশ্চিত করবে: নবেম্বর – জানুয়ারির মধ্যে পেয়ে যাবেন রেজাল্ট। এরমধ্যেই
  • এক্সেপ্টেন্স লেটার এবং ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এরমধ্যেই পেয়ে যাবেন।

ফল সেমিস্টার (সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের ৩য় সপ্তাহ)

  • ফল সেমিস্টারের জন্য প্রফেসরদেরকে মেইল ডিসেম্বর/জানুয়ারিতে শুরু করা উচিৎ
  • আবেদন জমা: মার্চ / এপ্রিলের মধ্যে
  • ভর্তি হওয়া নিশ্চিত করবে: জুন/জুলাইয়ের মধ্যে। এরমধ্যেই  এক্সেপ্টেন্স লেটার এবং ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস পেয়ে যাবেন।
বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএসএকের মিলনমেলা

প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ:

প্রথমে নিজেকে প্রফেসরের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। প্রফেসরকে উনার গবেষণা সম্পর্কে
আপনি কীভাবে জানতে পারেন, (ইন্টারনেট, গবেষণা পত্র বা আপনার কোনও বন্ধুর মাধ্যমে)
সম্মানজনক জার্নালে প্রকাশিত তার চমৎকার কিছু কাজের প্রশংসা করুন এবং কীভাবে
বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই ধরণের গবেষণা থেকে উপকৃত হয়েছিল সেই বিষয়ে উনার সাথে আলোচনা
করতে পারেন।
এখন আপনি যে বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী সেটা উল্লেখ করুন, যেখানে আপনি আগ্রহী
এবং সেই গবেষণা ক্ষেত্রের সম্ভাবনা এবং আপনার যোগ্যতা সম্পর্কে একটা ধারণা দিন।
আপনার উল্লেখিত গবেষণার বিষয়ে নিজে্র ভালোদিকগুলো তোলে ধরার চেষ্টা করুন। এটি
একটি কভার লেটার হিসাবে কাজ করবে যা প্রফেসরকে আপনার সম্পর্কে শর্ট সামারী
হিসেবে কাজ করবে। সুতরাং আপনার কথায় সহজে আপনার সম্পর্কে একটা ধারণা পান এবং
সেটার যেন একটা মূল্য থাকে।
অবশ্যই একটি সিভি অন্তর্ভুক্ত করুন ইমেইলে। সিভিটি পিডিএফ ফাইল আকারে সংযুক্ত
করা ভাল। ইমেইলের রিপ্লাই পাওয়ার জন্য একটা সিক্রেট সময় হচ্ছে, সোমবার থেকে
শুক্রবার। যে দেশে এপ্লাই করবেন সেই দেশের টাইম চেক করে ঐ দেশের সকাল ৭্টা-৯টার
মধ্যে ইমেইল করলে রিপ্লাই পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। কেন বেশি থাকে???
গবেষণা করুন।
ইমেইলের উত্তর না দিলে একটা ফলোআপ ইমেইল দিতে পারেন ২/৪ দিন পরে।তাও যদি
রিপ্লাই না দেয় তাহলে বুঝবেন প্রফেসর বিজি বা তার এই মূহুর্তে ছাত্র লাগবে না।

যদি প্রফেসরের কাছ থেকে ইতিবাচক উত্তর পাওয়ার পরে কি করবেন:

যদি কোন প্রফেসর আপনার সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে চেয়ে ইমেইলের জবাব দেয় তবে
এটি একটি ইতিবাচক ধারণা। তিনি আপনাকে আপনার ট্রান্সক্রিপ্ট, কোনও প্রকাশনা বা
আপনার গবেষণার অভিজ্ঞতার আরও বিস্তারিত জিজ্ঞেস করতে পারেন যা আপনি আগের
বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকা অবস্থায় পেয়েছেন বা করেছেন। আপনার যদি এক্সট্রা কারিকুলাম
এক্টিভিটির বা সোস্যাল কাজের অভিজ্ঞতা থাকে সেটাও বিস্তারিত উপাস্থপন করতে
ভুলবেন না।
যখন প্রফেসর আপনাকে সম্ভাব্য ছাত্র হিসাবে গ্রহণ করতে সম্মত হন।
প্রফেসরকে আপনার যাবতীয় খরচ, যেমন, আপনার থাকা,খাওয়া, বা অন্যান্য ব্যায় সম্পর্কে
জিজ্ঞাসা করুন। এইটা নিয়ে অনেকে জিজ্ঞেস করে,এইটা জিজ্ঞেস করা উচিৎ কিনা? কি
করবে না করবে এইটা নিয়ে কনফিউজড হয়ে যান যে প্রফেসর কি মনে করবে? এইটা আসলে
আপনার রাইট এবং এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আপনাকে প্রফেসর কনফার্ম করলে টাকা
পয়সা নিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন।
আপনার টিউশন ফি কোন স্কলারশিপ থেকে দেবেন নাকি আপনাকে যে বেতন দিবে সেটা থেকে
দিতে হবে সেটাও ক্লিয়ার করে নিবেন।
বেশিরভাগ প্রফেসররা তার প্রজেক্টের জন্য পাওয়া টাকা থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি
সেমিস্টারের টিউশন ফি সহ জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য প্রতি মাসে বেতন প্রদান করেন। কিছু
প্রফেসর মাসিক কিছু পরিমাণ টাকা আপনাকে দিয়ে দিবেন যা থেকে আপনার যাবতীয় খরচ
এবং টিউশন ফি ব্যায় করতে হয়।
একজন প্রফেসর নির্বাচন করা, আপনি যদি ভালো গবেষণার ক্যারিয়ার চান তবে তার
সাম্প্রতিক প্রকাশনাগুলি সাবধানতার সাথে অনুসন্ধান করুন এবং সাম্প্রতিক
প্রকাশনাগুলির একটি ভাল পয়েন্টগুলো, মানে তিনি খুব ভাল গবেষণা কাজ করছেন, সেগুলো
সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা রাখুন।

ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রস্তুতি:

  1.  একটি বৈধ পাসপোর্ট, পাসপোর্টের নোটারিযুক্ত কপি।
  2.  ২ কপি ছবি পাসপোর্ট সাইজ আবেদন ফর্মের সাথে সংযুক্ত করে দিতে হবে।
  3.  ফ্যামিলি সম্পর্কের প্রশংসাপত্রগুলি (ওয়ার্ড কমিশনার / ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে) ফরেন মিনিস্ট্রি / স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারা সত্যায়িত বা নোটারাইজড করে মূল আবেদন ফর্মের সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে।
  4.  ডেট অফ বার্থ সার্টিফিকেট ফরেন মিনিস্ট্রি / স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারা সত্যায়িত বা নোটারাইজড কপি মূল আবেদন ফর্মের সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে।
  5.  সকল প্রকার শিক্ষাগত সার্টিফিকেট এবং একাডেমিক সার্টিফিকেট সম্পর্কিত শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং ফরেন মিনিস্ট্রি দ্বারা সত্যায়িত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় বি.এসসি / এম.এসসি সার্টিফিকেটগুলি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক যাচাই করা হয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ফরেন মিনিস্ট্রি দ্বারা যাচাই করে আবেদন ফর্মের সাথে মূল কপি এবং নোটারীযুক্ত ফটোকপি উভয়ের সাথে সংযুক্ত করতে হবে
  6.  পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
  7.  ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা প্রফেসর থেকে পাওয়া আপনার ফিনানশিয়াল ডকুমেন্টসগুলি জমা দিতে হবে।
  8.  পিতামাতা / অভিভাবকদের কাছ থেকে নো অবজেকশন লেটার অ্যাডভোকেট দ্বারা নোটারী করতে হবে।
  9.  সরকারি কর্মকর্তা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে নো অবজেকশন লেটার জমা দিতে হবে।
  10.  আবেদনকারীর পিতামাতার আইডি কার্ডের ফটোকপি নোটারী করতে হবে।
  11.  আবেদন কারীকে ভিসার জন্য আবেদন বা রাষ্ট্রদূতের কাছে লেটার লিখতে হবে।
  12.  ভিসার আবেদনের ফর্মটি যথাযথভাবে পূরণ করে স্বাক্ষর করতে হবে। কোন ভূল বা মিথ্যা ইনফরমেশন দেওয়া যাবে না।
বি.দ্র.: কোরিয়ান সরকারের ভিসা নীতি অনুসারে ভিসার ডকুমেন্টস লিস্ট সময়ে পরিবর্তিত
হতে পারে। অবশ্যই এম্বাসীর ওয়েবসাইট চেক করে দেখবেন।
লেখক- আল জাবের ফয়সাল
হানগুক ইউনিভার্সিটি অফ ফরেন স্টাডিজ, সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া।
যোগাযোগ- faisalaljaber7@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Skip to toolbar